![]() |
| ছবি সৌজন্যে -অরিজিৎ বাগচী |
বাঙালির কাছে আড্ডা রামধনুর মতো। ব্যস্ততার মেঘবৃষ্টির শেষে যাকে দেখা যায় পাড়ার চায়ের দোকানে, রাস্তার মোড়ে, ফাঁকা মাঠে কিম্বা বাড়িতে। আড্ডা কখনও সৃষ্টির আঁতুড়ঘর, কখনও বা খোলা জানলা- প্রাণখোলা উদ্দামতা। একজন নাট্যকর্মী হিসেবে এবং লেখালেখির সাথে যুক্ত থাকার কারণে আমার কাছে আড্ডা ব্যাপারটা ভীষণ পজেটিভ।
অনেকদিন আগে কোনও এক বৃষ্টিসন্ধ্যা। রাত আটটা বেজে গেছে। অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছে। পড়ে আছি মাত্র তিনজন। আমার মাথায় নতুন নাটকের প্লট। অঝোর বৃষ্টি, চা, সিগারেট আর ফোক নিয়ে জমে উঠেছে মৌতাত। সেই বৃষ্টিভেজা আড্ডা থেকে জন্ম হলো "ভোলাভাই" নামক চরিত্রের। নাটকে যার কোনও সংলাপ ছিল না। সে কথা বলতো শুধুই গানের মাধ্যমে। এরকম আরও কত লেখা, চরিত্র উঠে এসেছে আড্ডা থেকে।
মাঝখানে হঠাৎ ইংরেজি কেতায় বাংলা বলার চল শুরু হলো। সে একেবারে বীতিবিচ্ছিরি ব্যাপার। খোকনদা গাইছে,
"মায়াবনবিহারিনী হরিণী..." প্রথম অন্তরাটা ধরলো- "ঠ্যাক্ ঠ্যাক্ নিজমনে ডুরেইঠে..." বাকিটা বিস্ফোরণ! হাসতে হাসতে খুন হয়ে যাওয়া আর কী! তখন আমরা কাঠ-বেকার। নিজেদের সার্কাসটিক নাম দিয়েছিলাম "বঞ্চিত- বানচোত্!" সে উচ্চারণ আরও ভয়ংকর- "বন্শিত ব্যানশট!" কতজনের প্রেম এই আড্ডা থেকে পৌঁছে গেছে ছাদনাতলায়! তাছাড়া রাজনীতির কচকচানি তো আছেই।
আবার আড্ডাতে নিয়মিত উঠে আসেন শেক্সপিয়র, ক্যামু, কাফ্কা, ব্রেখ্ট, স্তানিস্লাভস্কি, সার্ত্র, দস্তএভ্স্কি, হাইডেগার, শেলি, কিটস, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, কমলকুমার, বিভূতিভূষণ, বিনয়, শক্তি, সুনীল, সন্দীপন আরও অনেকেই। সব মিলিয়ে আড্ডার একটা ইতিবাচক দিক আমরা আজও খুঁজে পাই। তবে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের দেখে সত্যিই খারাপ লাগে। নির্ভেজাল, গঠনমূলক আড্ডার স্বাদ এরা পেল না! বাইক, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট আর ভার্চুয়াল জগতেই এরা নিজেদের সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। জীবনের পেয়ালা খালিই থেকে গেল! আসলে আমাদের আর্থাৎ বাঙালি "আড্ডাবাজ"দের কাছে আড্ডা ছাড়া জীবন মানেই নুন ছাড়া তরকারি। আজ মনে হয়, মান্না দে-র গাওয়া গানটা কী ভীষণ প্রাসঙ্গিক- "কফিহাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই!"
![]() |
| ছবি - ময়ূখ হালদার |
সাহিত্যের সন্ধানে'র সাপ্তাহিক ব্লগ প্রতিবেদন
কৌশিক দে (সম্পাদক )
অমৃতা রায় চৌধুরী, সম্রাট দে , অসীম দাস ( সহ সম্পাদক মন্ডলী )


No comments:
Post a Comment